ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর, যা এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা, বিশেষ করে সকালে ও বিকেলে কামড়ায় এবং জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। বর্ষা ও এর পরের মাসগুলোতে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকে।
ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ
- হঠাৎ বেশি জ্বর (প্রায় ১০২–১০৪° ফারেনহাইট)
- তীব্র মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা
- মাংসপেশি, হাড় ও গিঁটে ব্যথা
- বমি বমি ভাব বা বমি
- শরীরে লালচে র্যাশ
বেশিরভাগ মানুষ এক সপ্তাহের মধ্যে সেরে ওঠেন। অনেকের লক্ষণ খুব হালকা থাকে।
যে বিপদচিহ্ন দেখলে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন
জ্বর কমে যাওয়ার সময় (সাধারণত তৃতীয় থেকে সপ্তম দিনে) কিছু রোগীর অবস্থা হঠাৎ খারাপ হতে পারে। তাই জ্বর কমলেই নিশ্চিন্ত হবেন না। নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যান:
- পেটে তীব্র ব্যথা
- বারবার বমি, কিছুই খেতে বা পান করতে না পারা
- দাঁতের মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া, বমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত বা কালো পায়খানা
- শ্বাসকষ্ট
- খুব দুর্বলতা, অস্থিরতা বা ঝিমিয়ে পড়া
- হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
- অনেকক্ষণ (৪–৬ ঘণ্টা) প্রস্রাব না হওয়া
শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক মানুষ এবং যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদরোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকুন এবং শুরু থেকেই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
পরীক্ষা
জ্বরের প্রথম কয়েক দিনে NS1 পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়তে পারে। ডাক্তার প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তের CBC (প্লাটিলেট ও হেমাটোক্রিট) পরীক্ষা করতে বলবেন এবং কয়েক দিন পরপর তা দেখতে পারেন। কোন পরীক্ষা কখন করতে হবে, তা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করুন।
ঘরে যত্ন
- পূর্ণ বিশ্রাম নিন।
- পর্যাপ্ত তরল খান: পানি, খাবার স্যালাইন (ORS), ডাবের পানি, ফলের রস, স্যুপ।
- জ্বর বা ব্যথার জন্য শুধু প্যারাসিটামল খাবেন, ডাক্তারের বলা মাত্রায়।
- অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক বা এ ধরনের ব্যথার ওষুধ খাবেন না, এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড খাবেন না।
- প্রস্রাবের পরিমাণ ও বিপদচিহ্নগুলোর দিকে খেয়াল রাখুন।
প্রতিরোধ
- বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে ফুলের টব, টায়ার, ডাবের খোসা, বালতি, এসির পানিতে যেন পানি জমে না থাকে; অন্তত তিন দিনে একবার জমা পানি ফেলে দিন।
- দিনে ঘুমালেও মশারি ব্যবহার করুন।
- লম্বা হাতার জামা পরুন এবং প্রয়োজনে মশা তাড়ানোর ক্রিম ব্যবহার করুন।
- ডেঙ্গু রোগীকে মশারির ভেতরে রাখুন, যাতে মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে না ছড়ায়।
মনে রাখুন
ডেঙ্গুর বেশিরভাগ রোগী সঠিক যত্নে ভালো হয়ে যান। ভয় না পেয়ে সময়মতো ডাক্তার দেখান এবং বিপদচিহ্ন দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান। আপনার জেলার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজুন।
এই লেখাটি শুধু সাধারণ তথ্যের জন্য, এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিন। জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে কল করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালে যান।
